সোমবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৫৫ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, একুশের কণ্ঠ:: হিমালয়ের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় এখন হাড়কাঁপানো শীতের দাপট। ভোরের কনকনে হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশা জনজীবনকে প্রভাবিত করছে ব্যাপকভাবে। সকাল থেকে জমে থাকা আর্দ্রতা ও হিমশীতল বাতাসে কাঁপছে তেঁতুলিয়া। ডিসেম্বরের শুরুতেই শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকাল ৬টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। কুয়াশায় আচ্ছন্ন পরিবেশ, শিশিরভেজা প্রকৃতি ও কনকনে ঠান্ডা স্থানীয়দের স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করছে। সন্ধ্যার পর শীতের তীব্রতা আরও বাড়ছে, ফলে হাট-বাজারে শীতবস্ত্রের চাহিদা বেড়েছে দৃশ্যমানভাবে।
স্থানীয়দের মতে, সাধারণত নভেম্বরের শুরুতে শীত বাড়তে দেখা যায়। তবে কয়েক বছর ধরে আগাম শীতের আগমন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এরই মাঝে নতুন ধান ঘরে ওঠায় গ্রামীণ জনপদে নবান্নের উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পিঠা-পুলি এবং নতুন ধানের সুবাসে বাজারগুলোতে জমে উঠেছে ভোজনরসিকদের আড্ডা।
অন্যদিকে, তীব্র শীতের মাঝেও জীবিকার প্রয়োজনে সকাল থেকেই কাজে ছুটছেন শ্রমজীবী মানুষ। ভ্যান ও রিকশাচালকদের ভাষ্য, শীতের তীব্রতায় সকালবেলার কাজ করা বেশ কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগও বাড়ছে। নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি ও হাঁপানির রোগী বেড়ে যাওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এর আগে মঙ্গলবার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমের অন্যতম কম তাপমাত্রা। সোমবার ছিল ১৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের আবহাওয়াবিদ জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, শীত নামতে শুরু করেছে। ডিসেম্বরের প্রথম দিকেই শীত আরও তীব্র হবে। শৈত্যপ্রবাহেরও সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তর বাংলার প্রবেশদ্বার তেঁতুলিয়ায় তাই এখন পুরোপুরি শীতের আমেজ, সঙ্গে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জীবিকার চাপ সব মিলিয়ে শীত মোকাবিলায় ব্যস্ত সময় পার করছে এখানকার মানুষ।